ব্রাজিল জাতীয় ফুটবল দলের জার্সিতে আর খেলবেন না দেশটির ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা নেইমার জুনিয়র। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ থেকে ব্রাজিলের বিদায়ের পর আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানানোর সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন ৩৪ বছর বয়সী এই তারকা ফরোয়ার্ড।
মঙ্গলবার কোপা সুদামেরিকানায় ভেনেজুয়েলার ক্লাব ইউনিভার্সিদাদ সেন্ট্রালকে ৪-২ গোলে হারানোর পর নিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার নিয়ে কথা বলেন নেইমার। সেখানেই তিনি জানান, ব্রাজিল জাতীয় দলের হয়ে তার দীর্ঘ পথচলার সমাপ্তি ঘটেছে।
নেইমার বলেন, “জাতীয় দলের সঙ্গে আমার যাত্রা এখানেই শেষ। এই জার্সি পরে আমি অসংখ্য স্মরণীয় মুহূর্তের সাক্ষী হয়েছি, দেশের জন্য নিজের সর্বস্ব উজাড় করে দিয়েছি। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে, বিদায় বলার সময় এসেছে।”
২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে নরওয়ের কাছে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। সেই ম্যাচে পেনাল্টি থেকে গোল করলেও দলকে হার এড়াতে পারেননি নেইমার। শেষ বাঁশি বাজার পর আবেগাপ্লুত হয়ে মাঠেই কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। পরে জানা যায়, সেটিই ছিল ব্রাজিলের জার্সিতে তার শেষ ম্যাচ।
মাত্র ১৮ বছর বয়সে, ২০১০ সালে জাতীয় দলে অভিষেক হয়েছিল নেইমারের। এরপর দীর্ঘ ১৬ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে তিনি ব্রাজিলের হয়ে ১৩০ ম্যাচ খেলেছেন। এতে করেছেন ৮০টি গোল এবং সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও ৫৯টি গোল। ব্রাজিলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা হলেও বিশ্বকাপ কিংবা কোপা আমেরিকার শিরোপা জয়ের স্বপ্ন অধরাই থেকে গেল তার।
জাতীয় দল থেকে বিদায় নিলেও ক্লাব ফুটবলে খেলা চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন নেইমার। ইউনিভার্সিদাদ সেন্ট্রালের বিপক্ষে বদলি হিসেবে নেমে সান্তোসের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন তিনি। এই জয়ের ফলে কোপা সুদামেরিকানার শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে ব্রাজিলের ক্লাবটি।
এদিকে সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত একটি বিতর্কিত খবরও নাকচ করে দিয়েছেন নেইমার। সেখানে দাবি করা হয়েছিল, চ্যাপেকোয়েন্সের বিপক্ষে ড্রয়ের পর তিনি তরুণ সতীর্থ গ্যাব্রিয়েল বন্তেম্পো ও জোয়াও আনানিয়াসকে অপমান করেছেন।
তবে এসব অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন উল্লেখ করে নেইমার বলেন, ম্যাচ শেষে তিনি শুধু দলের আরও উন্নতির প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। অধিনায়ক হিসেবে সেটিই ছিল তার দায়িত্ব, এর বাইরে কোনো ধরনের অপমানজনক আচরণ তিনি করেননি।
সূত্র: গোল ডটকম